Subscribe Us

https://today24newsbangladesh.blogspot.com/

pop

Labels

Ads

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: রেকর্ড ৮৭১ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার তহবিল, চ্যাম্পিয়ন পাবে ৫১ মিলিয়ন ডলার

 



ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: রেকর্ড ৮৭১ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার তহবিল, চ্যাম্পিয়ন পাবে ৫১ মিলিয়ন ডলার

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ হতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আর্থিক আসর। এবারের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দল ট্রফির পাশাপাশি পাবে ৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার।

ফিফা ঘোষণা করেছে, বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মোট পুরস্কার তহবিল ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ বিশ্বকাপের ৪৪০ মিলিয়ন ডলারের প্রাইজমানির প্রায় দ্বিগুণ। ৪৮ দলের সম্প্রসারিত এই বিশ্বকাপের ফলে টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক মূল্য এবং আর্থিক পুরস্কার—দুটিই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ব, স্পন্সরশিপ, টিকিট বিক্রি, লাইসেন্সিং এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে বিপুল আয় করে ফিফা। সেই আয়ের একটি অংশ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে পুরস্কার হিসেবে বিতরণ করা হয়। ফিফার দাবি, বাকি অর্থ বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নে পুনঃবিনিয়োগ করা হয়।

২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পেয়েছিল ৪২ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এবার চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৯ মিলিয়ন ডলার বেশি, যা পরপর দুটি বিশ্বকাপের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন পুরস্কারের সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।

বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দেশই আর্থিক সহায়তা পাবে। মোট ৮৭১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৭০৩ মিলিয়ন ডলার দলগুলোর চূড়ান্ত অবস্থানের ভিত্তিতে বিতরণ করা হবে। বাকি ১৬৮ মিলিয়ন ডলার সব যোগ্যতাপ্রাপ্ত দলের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে।

প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দেশ ন্যূনতম ১২.৫ মিলিয়ন ডলার নিশ্চিতভাবে পাবে। এর মধ্যে ১০ মিলিয়ন ডলার অংশগ্রহণ ফি এবং ২.৫ মিলিয়ন ডলার প্রস্তুতি অনুদান হিসেবে প্রদান করা হবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ প্রাইজমানির তালিকা

🏅 চূড়ান্ত অবস্থান💰 পুরস্কারের অর্থ (মার্কিন ডলার)
🥇 চ্যাম্পিয়ন৫১ মিলিয়ন ডলার
🥈 রানার-আপ৩৪ মিলিয়ন ডলার
🥉 তৃতীয় স্থান৩০ মিলিয়ন ডলার
🏅 চতুর্থ স্থান২৮ মিলিয়ন ডলার
৫ম–৮ম স্থান২০ মিলিয়ন ডলার
৯ম–১৬তম স্থান১৬ মিলিয়ন ডলার
🌎 ১৭তম–৩২তম স্থান১২ মিলিয়ন ডলার
🎯 ৩৩তম–৪৮তম স্থান১০ মিলিয়ন ডলার

এছাড়া প্রতিটি যোগ্যতাপ্রাপ্ত দল ২.৫ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তুতি অনুদান পাবে। ফলে প্রতিটি দলের ন্যূনতম আয় হবে ১২.৫ মিলিয়ন ডলার।

ফিফার রেকর্ড আয়

পুরস্কারের অর্থ ইতিহাসের সর্বোচ্চ হলেও, এটি ফিফার মোট আয়ের তুলনায় মাত্র একটি ছোট অংশ।

বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে ফিফার মোট আয় প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ৮৭১ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ মোট আয়ের প্রায় ৬.৭ শতাংশ, পুরস্কার হিসেবে বিতরণ করা হবে।

অলাভজনক সংস্থা হিসেবে ফিফা জানিয়েছে, তারা কমপক্ষে ১১.৭ বিলিয়ন ডলার বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়নে পুনঃবিনিয়োগ করবে।

💵 ফিফার সম্ভাব্য আয়ের উৎস

📊 আয়ের উৎস💰 আনুমানিক আয়
📺 টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ব৪.২৬ বিলিয়ন ডলার
🎟 টিকিট বিক্রি৩.০০ বিলিয়ন ডলার
🤝 স্পন্সরশিপ ও লাইসেন্সিং৩.২০ বিলিয়ন ডলার
📱 অন্যান্য বাণিজ্যিক আয়অবশিষ্ট অংশ

 সম্প্রসারিত বিশ্বকাপে বাড়ছে আয়ের সুযোগ

৩২ দলের পরিবর্তে ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত হওয়ায় বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও বেড়েছে। ফলে টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পন্সরশিপ এবং বৈশ্বিক মিডিয়া অংশীদারিত্ব থেকে ফিফার আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রথমবারের মতো টিকটকইউটিউবের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও ফিফা কনটেন্ট থেকে আয় করছে। মিডিয়া অংশীদারদের মাধ্যমে প্রতিটি ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট এসব প্ল্যাটফর্মে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।

এবার টিকিট বিক্রিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ফিফা ডাইনামিক প্রাইসিং ব্যবস্থা চালু করেছে, যেখানে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকিটের দামও বেড়ে যায়। ফলে বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের দাম প্রায় ১১ হাজার মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। তুলনামূলকভাবে ২০২২ সালের ফাইনালের একটি টিকিটের প্রাথমিক মূল্য ছিল প্রায় ১,৬০০ ডলার

অন্যদিকে, ফিফার আয় বৃদ্ধির সঙ্গে বেড়েছে সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের আয়ও। ২০২৫ সালে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো প্রায় ৬.১ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন, যার মধ্যে ২.৮ মিলিয়ন ডলার ছিল ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট পারফরম্যান্স বোনাস।

বিশ্ব ফুটবলের নতুন আর্থিক মাইলফলক

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুধু অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যার দিক থেকেই নয়, আর্থিক দিক থেকেও ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। রেকর্ড প্রাইজমানি, বিপুল সম্প্রচার আয়, নতুন বাণিজ্যিক কৌশল এবং গতিশীল টিকিট মূল্য ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ বিশ্ব ফুটবলের অর্থনৈতিক শক্তি ও বৈশ্বিক বাজারের অভূতপূর্ব সম্প্রসারণের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।


 

কোন মন্তব্য নেই: