পল্লবীতে শিশুধর্ষণ ও হত্যা: ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় রায় ৭ জুন

 


পল্লবীতে শিশুধর্ষণ ও হত্যা: ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় রায় ৭ জুন

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আগামী ৭ জুন ঘোষণা করা হবে। ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ দিন নির্ধারণ করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দুপুরের আগে বিচারক আদালতে এজলাসে আসার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। পরে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন।

এর আগে সকালেই প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাঁর স্ত্রী ও সহ-আসামি স্বপ্না আক্তারকেও আদালতে হাজির করা হয়। অসুস্থ থাকায় স্বপ্নাকে হাসপাতাল থেকে আদালতে আনা হয়েছিল বলে জানা যায়।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ সোহেল রানার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে। একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা এবং তা প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা না রাখার অভিযোগে স্বপ্না আক্তারেরও আইনানুগ শাস্তি চাওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও আসামিদের পরিবার একই ভবনের পাশাপাশি ফ্ল্যাটে বসবাস করত। ঘটনার দিন সোহেল রানা শিশুটিকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করেন। মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যে এ বিষয়টি উঠে এসেছে বলে আদালতকে জানানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ আরও দাবি করে, ঘটনাস্থলের ওই তলায় অন্য কোনো পরিবারের বসবাস ছিল না। হত্যাকাণ্ডের পুরো সময় সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে রেখেছিলেন। বাইরে থেকে শিশুটিকে খোঁজার সময় দরজা খুলতে বলা হলেও তিনি জানান, শিশুটি সেখানে নেই।

একজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, তিনি সোহেল রানাকে ভবনের তৃতীয় তলার জানালা দিয়ে নিচে নামতে দেখেছেন। এতে প্রমাণিত হয়, অপরাধ সংঘটনের পর সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান।

রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির অংশও তুলে ধরে। তারা জানায়, ওই জবানবন্দিতে ‘ডলার’ নামে কোনো ব্যক্তির উল্লেখ ছিল না।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী যুক্তি দেন, সোহেল রানা নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি মাদকাসক্ত। ফলে তাঁর দেওয়া বক্তব্য সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। কেবল জবানবন্দির ভিত্তিতে শাস্তি দেওয়া সমীচীন হবে না বলেও তিনি দাবি করেন।

এর জবাবে রাষ্ট্রপক্ষ বলে, ঘটনার সময় কিংবা জবানবন্দি দেওয়ার সময় সোহেল রানা মাদকের প্রভাবে ছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ নেই।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর সোহেল রানা বাসার শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকেই তাঁর স্ত্রীকে আটক করা হয়। পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। গত ১ জুন ট্রাইব্যুনাল সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

তদন্ত চলাকালে ২০ মে সোহেল রানা ঢাকার একটি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পুলিশ জানায়, তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে পরে আদালতে তিনি দাবি করেন, ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। কখনো নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও পরবর্তী শুনানিতে তিনি বলেন, তিনি এবং ওই ব্যক্তি উভয়েই অপরাধে জড়িত ছিলেন।

তবে সরকার নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ আদালতকে জানান, তাঁর মক্কেলরা কখনো ‘ডলার’ নামে কোনো ব্যক্তির বিষয়ে তাঁকে কিছু বলেননি। এছাড়া পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে ওই নামে কারও উল্লেখও নেই।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ