পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম বাড়ল, ডিজেল অপরিবর্তিত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে দেশীয় বাজারেও। গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর মে মাসে তা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। তবে জুন মাসের জন্য সরকার আবারও তিন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
রোববার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। এতে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রলের দাম ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা করা হয়েছে। নতুন মূল্য আজ রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল ২০২২ সালের আগস্টে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে তখন ডিজেলের দাম এক ধাপে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়েছিল। যদিও তীব্র সমালোচনার মুখে একই মাসে লিটারপ্রতি ৫ টাকা কমানো হয়। গত এপ্রিলে মূল্যবৃদ্ধির পর জ্বালানি তেলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। নতুন সিদ্ধান্তে পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম আরও বেড়ে গেল।
সরকার ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করে। এই ব্যবস্থায় আগের মাসে আমদানি করা জ্বালানির ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসে নতুন মূল্য সমন্বয় করা হয়। মার্চ ও এপ্রিলের শুরুতে দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ১৯ এপ্রিল থেকে ডিজেল ১১৫ টাকা, পেট্রল ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুযায়ী, উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অন্যদিকে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের মূল্য নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নির্ধারণ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে দেশে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয় এবং বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। তবে ২০ এপ্রিল থেকে বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানো হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং ফিলিং স্টেশনগুলোর ভিড় কমতে শুরু করে।

0 মন্তব্যসমূহ