Subscribe Us

https://today24newsbangladesh.blogspot.com/

pop

Labels

Ads

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর দুই দেশের মানুষই চায়: ভারতের হাইকমিশনার


 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর দুই দেশের মানুষই চায়: ভারতের হাইকমিশনার

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার কারণেই এ সফর নিয়ে এত আলোচনা ও সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে।

বুধবার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমদ আযম খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ভারতের হাইকমিশনার।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের বর্তমান পরিবেশ ইতিবাচক। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সুবিধাজনক সময়ে বৈঠকে বসবেন। সার্বভৌম ও স্বাধীন দুই দেশের দুই নেতার মধ্যে একসময় বৈঠক হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দুই দেশের সম্পর্কে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে স্বীকার করে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, নেতারা আলোচনায় বসলে এমন কোনো সমস্যা নেই, যার সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।

ভারত সফরের তারিখ নিয়ে আলোচনা হয়নি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নভেম্বর মাসে ভারত সফরে যেতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, সফরের নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এমনকি কোন মাসে সফর হবে, সেটিও চূড়ান্ত হয়নি।

তিনি বলেন, সফর হবে, তবে এ নিয়ে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই। সফরের আগে যথাযথ প্রস্তুতি নিতে হবে। বাণিজ্য, পানি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আরও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন।

ভারতের হাইকমিশনার জানান, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে। তাঁর ভাষায়, দুই নেতা অনেক বিষয়ে ‘একই পেজে’ রয়েছেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই নেতার চিন্তার কেন্দ্রে রয়েছে সাধারণ মানুষ। দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত তা মানুষের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে তিনি আশা করেন।

দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি কতটা আশাবাদী—এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, তিনি ‘১০০ অ্যান্ড ১০০ শতাংশ’ আশাবাদী। তাঁর মতে, দুই দেশের মানুষের প্রত্যাশা হলো সম্পর্ক আরও উন্নত করা এবং একটি নতুন অধ্যায় শুরু করা।

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর প্রশ্নে মন্তব্য করেননি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি দীনেশ ত্রিবেদী।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।

‘শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমদ আযম খান।

তিনি বলেন, ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে তাঁর বৈঠকটি ছিল মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ। সেখানে দুই দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হলেও প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাবেন কি না বা সফরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর অথবা তাঁর মুখপাত্র জানাবেন।

তিনি বলেন, তাঁদের বৈঠকটি ছিল শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ।

স্বাধীনতা স্তম্ভ নিয়ে আলোচনা চলছে

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান ঘিরে আগের পরিকল্পনার পরিবর্তে ফোয়ারা নির্মাণের খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে আহমদ আযম খান বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভের কাজ কীভাবে সম্পন্ন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানকে কেন্দ্র করে সেখানে ফোয়ারা নির্মাণের বিষয়ে তাঁদের কোনো আলোচনা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেখানে কী ধরনের কাজ করা যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

তবে বর্তমান সরকার স্বাধীনতা স্তম্ভের মূল চেতনা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেটি নিয়ে কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাধীনতা স্তম্ভের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

মূল নকশা অপরিবর্তিত থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আহমদ আযম খান বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত কাজ হয়নি।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা স্তম্ভ দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এটি সম্পন্ন করার বিষয়ে মন্ত্রণালয় সক্রিয়ভাবে চিন্তা করছে। নকশা অপরিবর্তিত থাকবে নাকি পরিবর্তন করা হবে, সে বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করা সঠিক হবে না। ভবিষ্যতে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

কোন মন্তব্য নেই: