Subscribe Us

https://today24newsbangladesh.blogspot.com/

pop

Labels

Ads

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, গোপন নথিতে উঠে এল নতুন তথ্য

 

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, গোপন নথিতে উঠে এল নতুন তথ্য

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে পৃথক অভিযোগে দেশটির কারাগারে আটক ছিলেন। তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বা পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

১৮ অক্টোবর সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রম কল্যাণ উইং থেকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি গোপনীয় নথিতে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

নথিতে বলা হয়, গত ৪ অক্টোবর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানতে পারে কনস্যুলেট।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আক্তার।

মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

সৌদি গণমাধ্যমে প্রকাশিত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কা অঞ্চলে এই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করেছেন তাঁরা।

তবে দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সৌদি কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করেনি বলে কনস্যুলেটের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পৃথক অভিযোগে ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে

নথি অনুযায়ী, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়ে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একটি তালিকা পাওয়া যায়। ওই তালিকায় নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের নাম ছিল। তবে তাঁদের শাস্তি সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

তালিকার তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা সৌদি আরবের আল মাজাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়। পরদিন ২ আগস্ট সুইটিকে ব্যভিচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।

নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দার নারী কারাগারে আটক ছিলেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের সাজা ঘোষণা করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তালিকায় কোনো তথ্য ছিল না।

এ ধরনের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের নজির নেই

কনস্যুলেটের নথিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধ কিংবা ব্যভিচারের অভিযোগে কোনো বাংলাদেশিকে এর আগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই।

এ কারণে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের রায় ও তা কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

নৈতিকতাসংক্রান্ত মামলায় আটক ৩০৬ বাংলাদেশি

সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে নৈতিকতাসংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক রয়েছেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন এক মাসের কারাদণ্ড থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে।

মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে আগে জানানো হয়নি

কনস্যুলেটের নথি অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত সহায়তা চেয়ে কোনো আবেদন করা হয়নি। এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কনস্যুলেটের কোনো যোগাযোগও হয়নি।

অন্যদিকে, সৌদি কর্তৃপক্ষও তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা কিংবা তা কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে কিছু জানায়নি।

রায়ের কপি চেয়ে কূটনৈতিক নোট

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি কূটনৈতিক নোট পাঠিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

নথিতে বলা হয়েছে, রায়ের কপি ও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মামলার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া গেলে দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।

কোন মন্তব্য নেই: