সীমান্তে গুলিবিদ্ধ দুই ভারতীয় নাগরিক রংপুর মেডিকেলে ভর্তি
কুড়িগ্রাম সীমান্তে গুলিবিদ্ধ দুই ভারতীয় নাগরিককে পুলিশি হেফাজতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাঁদের একটি বেসরকারি ক্লিনিক থেকে উদ্ধার করার পর সোমবার ভোররাতে হাসপাতালে ভর্তি করে।
আহত দুজন হলেন ভারতের আসামের সিংমারী জেলার সুখচর উপজেলার ভেড়ামারা গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৩৫) এবং একই এলাকার আবদুল মজিদ মণ্ডলের ছেলে আবদুল আনিছ ওরফে খাজা (৩৯)।
পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে দায়ের করা মামলাটির নম্বর ১২। মামলার বাদী ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ বাবলা এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই প্রণয় কৃষ্ণ।
রংপুর মহানগর ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, রোববার কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের দইখাওয়া এলাকায় ওই দুই ব্যক্তি সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে গরু নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় বিএসএফ তাঁদের লক্ষ্য করে শর্টগান থেকে গুলি ছোড়ে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এতে তাঁরা গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় কেউ তাঁদের উদ্ধার করে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ সেখান থেকে তাঁদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, দুই ভারতীয় নাগরিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর। হাত, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে তাঁরা একাধিক গুলির আঘাত পেয়েছেন।
চিকিৎসাধীন ইসমাইল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, রোববার ভারতের সীমান্তের ভেতরে বিএসএফ তাঁদের বাংলাদেশি নাগরিক মনে করে আটক করে। পরে তাঁদের বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে এনে গুলি করে ফেলে রেখে যাওয়া হয় বলে তাঁর দাবি। এরপর আইরমারীর চর এলাকার দুই ব্যক্তি তাঁদের উদ্ধার করেন।
ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে কুড়িগ্রাম ২২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহাবুব উল হক এবং সহকারী পরিচালক মতিউর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন