প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন

 



প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আমেরিকান বিনিয়োগকারীদের সরকারি সহায়তা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এক্সিলারেট এনার্জির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট চিফ কমার্শিয়াল অফিসার অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ছয় মাসের দূরদর্শী সরকার চায়, মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক এবং তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করুক। আমরা আপনারা’র পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানাই।”

বিনিয়োগের জন্য সরকার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়ন এবং উদার অর্থনৈতিক রাজস্ব নীতি গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো বেসরকারি খাতনির্ভর একটি নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত অর্থনীতি গড়ে তোলা। আমরা চাই মার্কিন ব্যবসাগুলো এই রূপান্তরের অংশীদার হোক।”

জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, অর্থ, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন লজিস্টিকস খাতে মার্কিন ব্যবসার জন্য বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকার বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সহজীকরণ, কর ভ্যাট প্রশাসন উন্নতকরণ, মুনাফা প্রত্যাবাসন সহজ করা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা অবকাঠামো, বন্দর, লজিস্টিকস জ্বালানি নিরাপত্তার উন্নতি করছি। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করছি।”

সরকার সরাসরি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব পরামর্শক সেবা মাধ্যমে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়।”

তিনি যোগ করেন, “সরকার দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি-আমদানির সম্পর্ক জোরদারে কাজ করছে। একই সঙ্গে দুই দেশের অভিন্ন বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অগ্রাধিকার খাতে লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা এবং দক্ষতা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উৎপাদন বিনিয়োগের কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

আমেরিকান বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ আকর্ষণ নয়; বরং দীর্ঘস্থায়ী পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা।”

প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, “সরকার আপনার ব্যবসায়িক স্বার্থের কথা শুনতে, সাড়া দিতে এবং সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। সরকারকে আপনার অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করুন।”

তিনি মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগ ব্যবসা সম্প্রসারণে আত্মবিশ্বাসী হতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এ ধরনের বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাণিজ্য বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে সহায়ক হবে। আসুন, আমরা একসঙ্গে প্রবৃদ্ধি অর্জন করি এবং একটি সমৃদ্ধ, প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলি।”

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ