Subscribe Us

https://today24newsbangladesh.blogspot.com/

pop

Labels

Ads

কুশনারের ফোনে গোয়েন্দা নজরদারি, সৌদি-আমিরাত-ইসরায়েলকে ঘিরে বিলিয়ন ডলারের গোপন লেনদেনের অভিযোগ


 

কুশনারের ফোনে গোয়েন্দা নজরদারি, সৌদি-আমিরাত-ইসরায়েলকে ঘিরে বিলিয়ন ডলারের গোপন লেনদেনের অভিযোগ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা থাকাকালে উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থায়নে পরিচালিত ব্যাংক হিসাব গোপনে ব্যবহার করেছিলেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। নেদারল্যান্ডসের গোয়েন্দাদের নজরদারিতে তাঁর ফোনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব দাবি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সাময়িকী ভ্যানিটি ফেয়ার।

প্রতিবেদনটিতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইসরায়েলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কুশনারের কথিত আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রাম্পের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ এগিয়ে নিতে এসব লেনদেনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

তবে কুশনার এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনটি ভিত্তিহীন, মনগড়া এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কুশনার বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে আপত্তিকর ও কাল্পনিক গল্প ছড়ানো হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এটি সাংবাদিকতা নয়; বরং কল্পকাহিনি ও পক্ষপাতমূলক প্রচারণার মিশ্রণ।

অভিযোগের সূত্র: নতুন বই ও গোয়েন্দা নজরদারি

মার্কিন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ম্যাথু কোলের আসন্ন বই প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস: জ্যারেড কুশনার অ্যান্ড মোহাম্মদ বিন জায়েদস সিক্রেট প্লট টু রিমেক দ্য মিডল ইস্ট-এর একটি অংশের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে ভ্যানিটি ফেয়ার।

ম্যাথু কোল দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, গোয়েন্দা সংস্থা ও সামরিক গোপনীয়তা নিয়ে সাংবাদিকতা করছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নেদারল্যান্ডসের গোয়েন্দারা গোপনে কুশনারের আইফোনে নজরদারি চালান। এ সময় তাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। আজারবাইজানের একটি ব্যাংক থেকে ওই হিসাবে কয়েক শ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আমিরাত-সংশ্লিষ্ট হিসাবে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার

ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদন অনুসারে, ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকে থাকা ‘ওয়াতানি আল ইমারাত ফাউন্ডেশন’-এর একটি হিসাবে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল।

ফাউন্ডেশনটি আমিরাত সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একটি দাতব্য সংস্থা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কুশনার ওই হিসাবের অন্যতম স্বাক্ষরকারী ছিলেন বলে দাবি করা হলেও, তিনি হিসাবটির মালিক ছিলেন না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদের ভাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান তাহনুন বিন জায়েদ হিসাবটি তদারক করতেন।

ট্রাম্পের নীতিকে প্রভাবিত করতে গোপন তহবিলের পরিকল্পনা?

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদ এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতিকে নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে প্রভাবিত করতে একটি গোপন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কুশনারের দুটি ব্যাংক হিসাবে অন্তত ২ বিলিয়ন ডলার জমা করা হয়েছিল। তবে প্রস্তাবিত গোপন তহবিলের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া সৌদি রাজপরিবারের পক্ষ থেকে কুশনারের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য আরও একটি ব্যাংক হিসাবে ১ বিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের অভিযোগও আনা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেছিলেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কুশনারকে ওই অর্থ ইসরায়েলে জমা রাখার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কুশনার তৎকালীন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রিডম্যানের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদনটিতে উল্লিখিত আর্থিক লেনদেনের স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ সম্পর্কে প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগগুলো এখন পর্যন্ত আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

সব অভিযোগ অস্বীকার কুশনারের

এক্সে দেওয়া পোস্টে কুশনার অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ উন্মাদনা’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর দাবি, এমন কোনো ঘটনা কখনো ঘটেনি।

তিনি বলেন, তাঁর পক্ষ থেকে প্রতিটি অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও লেখক কোনো দাবির পক্ষে সামান্যতম প্রমাণও উপস্থাপন করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কুশনার আরও বলেন, প্রতিবেদনে কোনো ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অর্থ স্থানান্তরের নথি, হিসাব নম্বর, লেনদেনের তারিখ কিংবা যাচাইযোগ্য তথ্য দেওয়া হয়নি।

ট্রাম্পের জামাতা উল্লেখ করেন, আলোচিত সময়ে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে নিবিড় নজরদারির আওতায় থাকা ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। সে সময় তাঁকে ব্যাপক গণমাধ্যমের অনুসন্ধান, মার্কিন কংগ্রেসের একাধিক তদন্ত এবং বিশেষ কাউন্সেলের তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

কুশনারের ভাষ্য, তিনি স্বেচ্ছায় তদন্তকারীদের সহযোগিতা করেছেন এবং ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় সাক্ষ্য দিয়েছেন। অথচ তখন এসব অভিযোগ সামনে আসেনি। তাঁর দাবি, এর কারণ হলো অভিযোগগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

আইনজীবীর দাবি, এমন ব্যাংক হিসাবের অস্তিত্বই নেই

কুশনারের আইনজীবী চ্যাড মিজেলও প্রতিবেদনটিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বিষয়টি কোনো ভুল-বোঝাবুঝি বা মতপার্থক্যের নয়। তাঁর দাবি, আলোচিত ব্যাংক হিসাবের বাস্তবেই কোনো অস্তিত্ব নেই এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই গুরুতর ও মানহানিকর অভিযোগ তোলা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যবহারকারী কুশনারের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, তাঁরা এ বিষয়ে মামলা করবেন কি না। জবাবে মিজেল বলেন, ‘সব পথই খোলা আছে।’

ট্রাম্প প্রশাসনে কুশনারের ভূমিকা

৪৫ বছর বয়সী জ্যারেড কুশনার ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের স্বামী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের শান্তি আলোচনা-সংশ্লিষ্ট দলের একজন সদস্য হিসেবেও কাজ করছেন।

কুশনারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা নির্ধারণে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথি ও প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হবে। আপাতত তিনি এবং তাঁর আইনজীবী অভিযোগগুলো জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন।

কোন মন্তব্য নেই: