মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি: সিরিয়া, ওমান ও কুয়েতে মার্কিন স্থাপনায় হামলার দাবি আইআরজিসির

 

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি: সিরিয়া, ওমান ও কুয়েতে মার্কিন স্থাপনায় হামলার দাবি আইআরজিসির

তেহরান/দোহা — যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বাহিনীটির দাবি অনুযায়ী, সিরিয়া, ওমান ও কুয়েতে মার্কিন বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। একই সময়ে কাতার, জর্ডান ও ইরাকেও নিরাপত্তা–সংক্রান্ত একাধিক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ একাধিক বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, তাদের এরোস্পেস ফোর্স পরিচালিত অভিযানে সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী একটি কমান্ড সেন্টার, ওমানে মার্কিন নজরদারি রাডার এবং কুয়েতে অস্ত্রের গুদাম ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসির দাবি, এসব অভিযানে একটি রাডার ব্যবস্থা ও বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত কয়েকটি মার্কিন হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনীর হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে কোনো আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রতিশোধমূলক অভিযানের দাবি

আইআরজিসি জানায়, ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বামপুর এলাকায় সেনাবাহিনীর ৩৮৮তম ব্রিগেডের ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় সাতজন ইরানি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এসব অভিযান চালানো হয়েছে।

বাহিনীটি আরও দাবি করে, তাদের যোদ্ধারা এখনো হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানি বন্ধ রাখার অবস্থান বহাল থাকবে।

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো এবং পূর্ববর্তী সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয়।

কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি

আরেকটি বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের নতুন অভিযানের প্রথম ধাপে কুয়েতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার, অস্ত্রভান্ডার, দুটি হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম (হিমার্স) এবং একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

বাহিনীটির দাবি, হামলার ফলে কুয়েতে মার্কিন একটি ঘাঁটিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে এ দাবিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আইআরজিসি আরও অভিযোগ করে, যুক্তরাষ্ট্র টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, রেলপথ এবং চলমান যানবাহনসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে, যাতে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

ওমানে রাডার ধ্বংসের দাবি

পৃথক আরেকটি বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ওমানের সালমাহ মালভূমিতে অবস্থিত একটি মার্কিন নৌ নজরদারি রাডার এবং ঘানাম এলাকায় একটি আকাশ নজরদারি রাডার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।

বাহিনীটি আরও অভিযোগ করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ করেছে। এ কারণে ইরান পাল্টা সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

কাতার, জর্ডান ও ইরাকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি

এদিকে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক আকাশ হামলা প্রতিহত করেছে। এর আগে একটি হামলার পর পড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষে আহত হয় এক শিশু।

জর্ডানের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং পরে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের সুলাইমানিয়াহ শহরে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

এছাড়া ইরাকের এরবিল শহরের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের বাহিনী আটটি বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে কুর্দি সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর দাবি। ইরাকের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। তবে সংঘাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের অনেক দাবিই এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ