সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও স্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের তথ্য দিল এফবিআই
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী রুকমিলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসায়িক নথি–সংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।
সোমবার ঢাকার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক (জনসংযোগ) আখতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রীর বিষয়ে তথ্য পেতে দুদক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠিয়েছিল। এর মাধ্যমে তদন্ত বা বিচারিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় তথ্য, নথি কিংবা সম্পদ জব্দের বিষয়ে অন্য দেশের সহায়তা চাওয়া হয়।
দুদকের ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এফবিআই তথ্য দিয়েছে বলে জানান আখতারুল ইসলাম।
তবে এফবিআইয়ের প্রতিবেদনটি কবে দুদক পেয়েছে, এতে কী ধরনের তথ্য রয়েছে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কত সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এসব সম্পদ ইতিমধ্যে জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট করেনি দুদক।
যুক্তরাষ্ট্রে ওই দম্পতির সম্পদের আনুমানিক মূল্য জানতে চাইলে আখতারুল ইসলাম বলেন, আরও তথ্য পাওয়া গেলে সাংবাদিকদের জানানো হবে।
এর আগে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ জানুয়ারি ঢাকার একটি আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাতটি দেশে থাকা প্রায় ১ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার সম্পদ জব্দের আদেশ দেন। দুদকের আবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের সম্পদ কেনার মূল্য প্রায় ৪৩৭ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
আইল অব ম্যানেও সম্পদ জব্দ
দুদকের উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম জানান, ব্রিটিশ ক্রাউন ডিপেনডেন্সি আইল অব ম্যানের কর্তৃপক্ষ নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, তাঁর স্ত্রী নাসরিন ইসলাম এবং ওয়ান প্রপার্টি লিমিটেডের বিষয়ে দুদকের পাঠানো আইনি সহায়তার অনুরোধ বাস্তবায়নের তথ্য দিয়েছে।
অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদ জব্দের বিষয়েও আইল অব ম্যানের কর্তৃপক্ষ দুদককে তথ্য জানিয়েছে।
ব্রিটিশ কোম্পানি রেজিস্ট্রারের অনলাইন তথ্য অনুযায়ী, ওয়ান প্রপার্টি লিমিটেড আইল অব ম্যানের নিবন্ধিত একটি প্রতিষ্ঠান। এতে নজরুল ইসলাম মজুমদার ও নাসরিন ইসলামকে কোম্পানিটির উপকারভোগী মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুজনের প্রত্যেকেরই কোম্পানিটির ২৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ও ভোটাধিকার রয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলায় তাঁর জ্ঞাত বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রায় ৭৮১ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

0 মন্তব্যসমূহ