অস্ত্র নিয়ে মব সৃষ্টির অভিযোগে নাসীরুদ্দীনকে আইনের আওতায় আনার দাবি ছাত্রদলের
অস্ত্র প্রদর্শন ও মব সৃষ্টির অভিযোগ এনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবিলম্বে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদল। শুক্রবার বিকেলে ঝিনাইদহ শহরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে আয়োজিত সমাবেশ থেকে এ দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা।
এর আগে দুপুরে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে নাসীরুদ্দীনসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজ শেষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদের সঙ্গে কথা বলার সময় হঠাৎ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দিকে ডিম ছোড়া হয়। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা তাঁকে ঘিরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, লাঠিপেটা ও পাল্টাপাল্টি স্লোগানের ঘটনা ঘটে।
ঝিনাইদহ জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়ক হামিদ পারভেজ অভিযোগ করেন, নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঝিনাইদহে এসেছিলেন। মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালান। এতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা, জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সাইদুর রহমানসহ কয়েকজন আহত হন। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে বিকেলের বিক্ষোভ সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন বলেন, “নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছেন। আজও নামাজ শেষে লোকজন জড়ো করে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা চালানো হয়। সংঘর্ষ শুরু হলে তিনি অস্ত্র বের করে মহড়া দেন।”
তিনি বলেন, “এই অস্ত্র কোথা থেকে এসেছে, তা তদন্ত করে দেখতে হবে। আমরা তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাউজামান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি জানান, এনসিপির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অস্ত্র প্রদর্শনের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে জেলা শহরে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত সভা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

0 মন্তব্যসমূহ