ডিজেল ও অকটেন আমদানিতে আজ বিকেলে জরুরি বৈঠক
ডিজেল ও অকটেনসহ মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে আজ শনিবার সরকারি ছুটির দিনেও জরুরি বৈঠকে বসছে সরকার। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যিনি অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির প্রধান।
প্রথমে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন মিললে পরবর্তী ক্রয় কমিটির বৈঠকে তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তোলা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতে এই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
ক্রয় কমিটির বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিবিএস ট্রেডিং হাউস এফজেডসিওর কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১ লাখ ৫০ হাজার টন ডিজেল ও অকটেন আমদানির প্রস্তাব উঠতে পারে। এছাড়া ইউএইর ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি থেকে ১ লাখ টন ডিজেল এবং কাজাখস্তানের কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি থেকে আরও ১ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হতে পারে।
এর আগে, গত ৩১ মার্চ ক্রয় কমিটির বৈঠকে ২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছিল।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চলতি এপ্রিল মাসে দেশে ডিজেলের চাহিদা প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টন। প্রস্তাবগুলো অনুমোদিত হলে মে ও জুন মাসের দিকে এসব জ্বালানি দেশে পৌঁছাতে পারে। তবে এর আগে বেশ কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করতে হবে—ক্রয় কমিটির অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে পারফরম্যান্স গ্যারান্টি (পিজি) নেওয়া, এরপর ঋণপত্র (এলসি) খোলা এবং কার্যাদেশ প্রদান।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব ও মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতেই সরকার এই জরুরি বৈঠকের আয়োজন করেছে। তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে অকটেনের কোনো সংকট নেই এবং অন্তত তিন মাসের মজুত রয়েছে। একইভাবে, এপ্রিল মাসেও ডিজেলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।

0 মন্তব্যসমূহ