ইরান যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বসে ছিলেন Donald Trump। এ সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের একটি দল উদ্বেগজনক তথ্য নিয়ে হাজির হয়।
ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের জনমত জরিপকারী Tony Fabrizio-এর সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, এই যুদ্ধ ক্রমেই জনসমর্থন হারাচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম গ্যালনপ্রতি চার ডলার ছাড়িয়েছে, শেয়ারবাজার নেমে গেছে কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে, আর লাখো মানুষ রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এরই মধ্যে ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্যের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের কিছু ঘনিষ্ঠ সমর্থকও এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের সমালোচনা শুরু করেছেন। হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ Susie Wiles-এর নেতৃত্বে উপদেষ্টারা প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেন—যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তাঁর জনপ্রিয়তা এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প সম্প্রতি নিয়মিতভাবে যুদ্ধক্ষেত্রের সাফল্যের ভিডিও দেখছেন এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলাকে নিজের বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে হোয়াইট হাউসের ভেতরের কিছু সূত্রের মতে, প্রেসিডেন্টকে বাস্তব পরিস্থিতির তুলনায় বেশি ইতিবাচক ছবি দেখানো হচ্ছে—তিনি যা শুনতে চান, সেটাই বেশি তুলে ধরা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে সুজি ওয়াইলস সহকর্মীদের আরও স্পষ্টভাবে বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন, বিশেষ করে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়গুলো।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় চাপের মুখে পড়েছে। পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট Strait of Hormuz অচল হয়ে পড়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এ অবস্থায় ট্রাম্প নিজেও ক্রমবর্ধমান চাপ অনুভব করছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলা উপদেষ্টা ও কংগ্রেস সদস্যদের মতে, তিনি এখন যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজছেন। ট্রাম্প নাকি জানিয়েছেন, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এড়িয়ে তিনি এমন একটি সমাপ্তি চান, যা ‘বিজয়’ হিসেবে ঘোষণা করা যাবে।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, তিনি এমন একটি পথ খুঁজছেন যাতে লড়াই থামানো যায়, রাজনৈতিক ক্ষতি কমানো যায় এবং অর্থনীতি স্থিতিশীল করা সম্ভব হয়।
তবে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে ইরানের পাল্টা হামলার কারণে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth-সহ শীর্ষ কর্মকর্তারা ইরানের ব্যাপক প্রতিক্রিয়ায় বিস্মিত হয়েছেন। কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।
পেন্টাগনের দাবি, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সামরিকভাবে সফল—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে এবং তাদের সামরিক অবকাঠামোয় বড় ক্ষতি হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রাম্পের বৃহত্তর লক্ষ্য—যেমন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা বা শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা—অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
ট্রাম্প একদিকে সামরিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে অভিযানের সমাপ্তি ঘনিয়ে এসেছে বলে দাবি করছেন, অন্যদিকে আবার প্রয়োজন হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিচ্ছেন।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। ট্রাম্প একই সঙ্গে সংঘাত জোরদার করা এবং তা থেকে বেরিয়ে আসার—দুই দিকেই অবস্থান রাখছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

0 মন্তব্যসমূহ