ট্রাম্পের প্রাইমটাইম ভাষণ থেকে ৪টি মূল বিষয়
ওয়াশিংটনে ১ এপ্রিল দেওয়া প্রাইমটাইম ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এক মাসের কিছু বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে। তাঁর ভাষায়, “যুদ্ধের ইতিহাসে এত অল্প সময়ে কোনো শত্রুপক্ষ এত বড় ও স্পষ্ট ক্ষতির মুখে পড়েনি।”
ভাষণের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর আওতায় তারা ইতিমধ্যে ইরানের ১২,৩০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েলও ইরানে হাজারো হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরানও পাল্টা হিসেবে ইসরায়েল ও অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে।
নিচে ট্রাম্পের বক্তব্যের চারটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো:
১. কৌশলগত লক্ষ্য ‘প্রায় অর্জিত’
ট্রাম্প বলেন, অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল—ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা বন্ধ করা, আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন ভেঙে দেওয়া এবং পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকানো।
তিনি দাবি করেন, এসব লক্ষ্য এখন প্রায় পূরণ হতে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ১৫৫টির বেশি ইরানি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও সংঘাতে জড়িয়েছে। ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের ওপর ইরাকেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, “আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ আমরা আরও কঠোর আঘাত হানব।”
২. ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা নজরদারিতে
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকানোকে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
ট্রাম্পের দাবি, ওই হামলায় স্থাপনাগুলো এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেখানে পুনরায় কার্যক্রম চালু করতে দীর্ঘ সময় লাগবে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি দখলে না গিয়ে স্যাটেলাইট নজরদারির মাধ্যমে এসব স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করবে। “কোনো নড়াচড়া দেখলেই আবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে,” হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
৩. চুক্তি না হলে জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুমকি
ট্রাম্প জানান, ইরান চুক্তিতে না এলে দেশটির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে।
তিনি বলেন, “আমরা তাদের প্রতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু করেছি।”
তবে এখনো ইরানের তেল খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি, যদিও সেটি সবচেয়ে সহজ লক্ষ্য।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকির নিন্দা জানিয়ে বলেন, এমন হামলা সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি আঘাত এবং এর প্রভাব আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়বে।
৪. হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক হবে—ট্রাম্পের আশা
ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালিতে আবার স্বাভাবিকভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহন শুরু হবে।
তিনি মনে করেন, ইরান নিজস্ব অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য তেল বিক্রিতে আগ্রহী হবে, ফলে জ্বালানির দামও দ্রুত কমে আসবে।
জ্বালানির দাম বাড়ার জন্য তিনি ইরানকে দায়ী করেন এবং ইউরোপসহ তেলনির্ভর দেশগুলোকে প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সারসংক্ষেপ:

0 মন্তব্যসমূহ