![]() |
Trump বললেন, কিছু দেশের জন্য তেল–সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে বেড়ে যাওয়া জ্বালানি দামের চাপ কমাতে কিছু দেশের ওপর আরোপিত তেল–সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
ফ্লোরিডার মিয়ামির ট্রাম্প ন্যাশনাল ডোরাল রিসোর্টে ৯ মার্চ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তেলের দাম কম রাখতে চাই।” তিনি দাবি করেন, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের কারণে তেলের দাম কৃত্রিমভাবে বেড়ে গেছে।
তিনি জানান, জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্র “কিছু তেল–সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার বা শিথিল করবে।”
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, ইরান যুদ্ধ শেষ হলে এসব নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন নাও থাকতে পারে। তিনি বলেন, “যুদ্ধ শেষ হলে হয়তো আর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দরকারই হবে না। তখন অনেক বেশি শান্তি থাকবে।”
এ সময় ট্রাম্প জানান, ৯ মার্চ তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তবে রাশিয়ার ওপর আরোপিত তেল–সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি আলোচনায় ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের বিষয়টি পুতিনকে অবহিত করা হয়েছে এবং তিনি তা দেখে “খুবই বিস্মিত” হয়েছেন। দুই নেতা ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, পুতিন পরিস্থিতি সমাধানে সহায়ক হতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, “আমি তাকে বলেছি, ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারলে সেটাই সবচেয়ে বেশি সহায়ক হবে।”
এর আগে ৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, ইরানকে ঘিরে সংঘাত চলাকালে বিশ্ববাজারে পর্যাপ্ত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনা করছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ভারতকে ৩০ দিনের জন্য ছাড় দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা পথে থাকা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কিনতে পারে।
ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা শত শত মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে। এসবের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে একাধিক হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন তেলের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৯ মার্চ প্রায় ১১৫ ডলার প্রতি ব্যারেলে পৌঁছায়। তবে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়ার পর একই দিনে দাম নেমে প্রায় ৯০ ডলারের কাছাকাছি চলে আসে।

0 মন্তব্যসমূহ