ইরানের প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি, শত্রুদের বিরুদ্ধে কঠোর হামলা অব্যাহত থাকবে

 


ইরানের প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি, শত্রুদের বিরুদ্ধে কঠোর হামলা অব্যাহত থাকবে

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ওপর ইরানের কঠোর হামলা অব্যাহত থাকবে।

রোববার টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের সর্বোচ্চ নেতার পথ অনুসরণ করব।” তিনি দাবি করেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুদের সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানতে এবং সেগুলো ধ্বংস করতে থাকবে। তিনি আরও বলেন, “বিপ্লবের নেতা” আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–এর শাহাদাত ছিল বছরের পর বছর ত্যাগের চূড়ান্ত পরিণতি।

প্রতিবেশীদের যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের ওপর ক্ষুব্ধ হওয়া উচিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর ক্ষুব্ধ হওয়া, ইরানের ওপর নয়।

আল জাজিরা–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা আত্মরক্ষা ছাড়া অন্য কোনো পথ দেখছি না। আমরা প্রতিবেশী ভাইদের লক্ষ্য করে হামলা করছি না; হামলা করছি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে।”

তিনি জানান, তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করছে। তার আশা, তারা বুঝতে পারবে যে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ইরান দায়ী নয়।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের পরিকল্পনা নেই

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তেহরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনো ইচ্ছা নেই, এমনকি নৌচলাচল ব্যাহত হয়—এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ারও পরিকল্পনা নেই।

এদিকে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য সংস্থা UKMTO জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটিতে ‘অজ্ঞাত নিক্ষিপ্ত বস্তু’ আঘাত হানে। প্রাথমিকভাবে ইঞ্জিন রুমে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনাগুলো তদন্ত করা হচ্ছে।

আমিরাত ও কুয়েতে হতাহত

সংযুক্ত আরব আমিরাত–এ ইরানের হামলা শুরুর পর থেকে তিনজন নিহত এবং ৫৮ জন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে কুয়েত–এর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান পরিস্থিতিতে একজন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের আল-আদান হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ইসরায়েলের বেইত শেমেশে নিহত বেড়ে ৮

ইসরায়েলের বেইত শেমেশ এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ২৭ জন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা মাজেন ডেভিড আডোম জানায়, জেরুজালেম থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত বেইত শেমেশের আবাসিক এলাকায় সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। আহতদের উদ্ধারে চিকিৎসক দল ও একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

হরমুজ প্রণালির দুই পাশে জাহাজ আটকা

জাহাজ চলাচল–সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি বহনকারী অন্তত ১৫০টি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালির বাইরে উপসাগরের উন্মুক্ত জলরাশিতে নোঙর ফেলেছে। প্রণালির অপর পাশেও আরও কয়েক ডজন জাহাজ অবস্থান করছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং মেরিন ট্রাফিকের শিপ-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ইরাক, সৌদি আরব ও কাতারের উপকূল সংলগ্ন এলাকায় এসব জাহাজ অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি: শত্রুদের বিরুদ্ধে কঠোর হামলা চলবে

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ইরানের কঠোর হামলা অব্যাহত থাকবে।

রোববার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের সর্বোচ্চ নেতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে যাব।” তিনি দাবি করেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুদের সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানতে থাকবে। বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-এর শাহাদাতকে তিনি “বছরের পর বছর ত্যাগের চূড়ান্ত পরিণতি” হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রতিবেশীদের উদ্দেশে বার্তা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্ষোভ থাকা উচিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে, ইরানের বিরুদ্ধে নয়। Al Jazeera-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা আত্মরক্ষা ছাড়া আর কোনো পথ দেখছি না। আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা করছি না; হামলা করছি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে।”

তিনি জানান, তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করছে। তার ভাষ্য, এ সংকট ইরানের সৃষ্টি নয় এবং এর দায়ও ইরানের নয়।

হরমুজ প্রণালি বন্ধের পরিকল্পনা নেই

আব্বাস আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনো ইচ্ছা তেহরানের নেই। এমনকি নৌচলাচল ব্যাহত হয়—এমন পদক্ষেপ নেওয়ারও পরিকল্পনা নেই।

তবে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য সংস্থা United Kingdom Maritime Trade Operations (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি জাহাজে ‘অজ্ঞাত নিক্ষিপ্ত বস্তু’ আঘাত হানার পর ইঞ্জিন কক্ষে আগুন লাগে, যা পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ওমান উপকূলসংলগ্ন কুমজারের কাছেও আরেকটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

শিপ-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি বহনকারী অন্তত ১৫০টি ট্যাঙ্কার প্রণালির বাইরে উপসাগরীয় উন্মুক্ত জলসীমায় নোঙর করেছে। ইরাক, সৌদি আরব ও কাতার উপকূলসংলগ্ন এলাকাতেও বহু জাহাজ স্থির রয়েছে।

আমিরাত ও কুয়েতে হতাহত

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলার পর এ পর্যন্ত ৩ জন নিহত ও ৫৮ জন আহত হয়েছেন। কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান পরিস্থিতিতে ১ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন; আহতদের আল-আদান হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইসরায়েলের বেইত শেমেশ এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে; আহত হয়েছেন ২৭ জন, তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা Magen David Adom জানায়, জেরুজালেম থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত বেইত শেমেশের আবাসিক এলাকায় সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। উদ্ধারকাজে চিকিৎসক দল ও একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন রয়েছে।

এর আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত ও প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন। পরে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ