কেউ যেন জনগণের ভোটাধিকার হরণ করতে না পারে বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ভোটের ফল পাল্টে দিতে না পারে—এ বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে রোববার রাজধানীর মিরপুরে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
ভোটারদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “আপনাদের সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কেউ আপনাদের ভোটকে বাক্সে বন্দী করে ‘আমি-ডামির নির্বাচন’ করতে না পারে। যেন কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আপনাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া না হয়।”
বিকেলে মিরপুরের ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলামের সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, আল্লাহ মানুষকে যে সক্ষমতা দেননি, এমন কোনো প্রতিশ্রুতি জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে চান না বিএনপি। বরং মানুষের সাধ্যের মধ্যে থাকা বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতিই দেওয়া হবে।
একটি গোষ্ঠী ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে—এমন অভিযোগ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ইতিমধ্যে তাদের দলের লোকজন নকল সিল তৈরির সময় ধরা পড়েছে। পাশাপাশি সরল মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের ঘটনাও দেখা গেছে।
কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমান বলেন, অতীতেও এই গোষ্ঠী দেশ স্বাধীনতার সময় জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। নব্বইয়ের আন্দোলনের সময়ও তারা জনগণকে ফেলে রেখে স্বৈরাচারের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে জনগণকে পরিত্যাগ করার দৃষ্টান্ত রয়েছে তাদের।
নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে বিএনপি কী ধরনের কাজ করবে, সে বিষয়ে বক্তব্যে পরিকল্পনা ও কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে জনগণের কোনো লাভ নেই। জনগণের দরকার বাস্তব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি, যা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে। এই মুহূর্তে বিএনপির কাছেই সে ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
গত ১৬ বছরে ‘মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা উন্নয়ন’ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে জনগণের প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি, বরং সীমিতসংখ্যক মানুষেরই লাভ হয়েছে। মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের পকেট ভরানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঢাকা-১৪ আসনের ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত প্রার্থী সানজিদা ইসলামকে দেখভাল করতে হবে, আর ১৩ তারিখ থেকে দায়িত্ব ভোটারদের। মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝেন এবং পাশে থাকেন—এমন একজনকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই প্রধান লক্ষ্য
এর আগে বিকেলে পল্লবীর লাল মাঠে ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী আমিনুল হকের নির্বাচনী পথসভায় যোগ দেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি বিএনপির দেশ পুনর্গঠন ও জনকল্যাণমূলক নানা পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই হবে প্রধান লক্ষ্য।
নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান ঘোষণা দেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি গৃহিণীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সরাসরি সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে প্রতিটি জেলা ও ঢাকায় একাধিক ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট ও আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের কথা জানান তারেক রহমান। এসব প্রতিষ্ঠানে ফ্রিল্যান্সিং, ডেটা প্রসেসিং ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি প্রবাসে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য জমি বিক্রি ছাড়াই স্বল্প সুদে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থার পরিকল্পনার কথাও বলেন তিনি।
ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। এছাড়া ঢাকা-১৬ ও ১৭ আসনের উদ্বাস্তু ও আবাসনসংকটে থাকা মানুষের জন্য আইনি ভিত্তিতে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
আমিনুল হকের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার এই অঞ্চলে একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন তারেক রহমান। বক্তব্যের শেষভাগে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, উন্নয়নের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।

0 মন্তব্যসমূহ