নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার দায় কেন আ.লীগের ওপর পড়বে—ব্যাখ্যা দিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো সহিংসতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে তার দায় আওয়ামী লীগের ওপর বর্তাবে—এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি দলের নাম উল্লেখ না করে বলেন, নির্বাচনে যদি কোনো গণ্ডগোল হয়, তা মূলত তাদের দ্বারাই ঘটতে পারে যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না বা অংশ নিতে পারছেন না।
বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় এক সাংবাদিক জানতে চান, নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা হবে—এ বিষয়ে সরকার কি নিশ্চিত। জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “না, আমরা মোটেই সে রকম নিশ্চিত নই। তবে যেকোনো অপচেষ্টার আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে প্রতিদিনের পরিস্থিতি ও অগ্রগতির বিস্তারিত তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভালোভাবে জানাতে পারবে। তবে সরকারের মূল্যায়ন হলো, সাধারণভাবে নির্বাচন ঘিরে বড় ধরনের সংঘাত হওয়ার কথা নয়। “যাঁরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন, তাঁদের সবাই নির্বাচনী কার্যক্রমে যথেষ্ট সংযম দেখাচ্ছেন। তাই যদি কোনো গণ্ডগোল হয়, তা নির্বাচনে অংশ না নেওয়া বা নিতে না পারা পক্ষগুলোর দিক থেকেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সে কারণেই এই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে,” তিনি ব্যাখ্যা করেন।
উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ও পলাতক শেখ হাসিনাকে গত ২৫ জানুয়ারি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বিস্ময় ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ সরকার। সেদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই বক্তব্যে বাংলাদেশের সরকার উৎখাত এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে সহিংসতায় উসকানি দেওয়া হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
বিজ্ঞপ্তিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আরও বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। পাশাপাশি, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে ও নির্বাচন দিবসে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায় সংশ্লিষ্ট সংগঠনের ওপর বর্তাবে বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়।

0 মন্তব্যসমূহ