সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোর প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে নবম জাতীয় বেতন কমিশন। কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন–ভাতা ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। তবে আগের মতোই বেতনগ্রেডের সংখ্যা ২০টিই থাকছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন আজ বুধবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থসচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের সব পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সরকার সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে প্রজ্ঞাপন জারি করবে।
কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খান জানান, প্রস্তাবিত বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই কমিশন তাদের প্রতিবেদন দাখিল করেছে। অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর গত বছরের ২৭ জুলাই সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে এবং ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করে। কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি।
প্রধান উপদেষ্টা প্রতিবেদন গ্রহণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “এটি একটি বিশাল কাজ। মানুষ বহুদিন ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছে। আউটলাইন দেখে বুঝলাম, এটি অত্যন্ত সৃজনশীলভাবে করা হয়েছে।”
কমিশনপ্রধান বলেন, গত এক দশকে বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে অর্থনীতির প্রায় সব সূচকে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সময়োপযোগী বেতনকাঠামো না থাকায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতায় বিদ্যমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে কমিশন কাজ করেছে।
প্রেস উইং জানায়, নির্ধারিত কার্যপরিধি অনুসরণ করে বাস্তবসম্মত সুপারিশ তৈরির জন্য কমিশন অনলাইন ও অফলাইনে ১৮৪টি সভা করেছে এবং ২ হাজার ৫৫২ জনের মতামত নিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যাপক মতবিনিময় করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান ও এর বাস্তবায়নযোগ্যতা নির্ধারণও কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল।
প্রতিবেদন দাখিলের সময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো প্রস্তাব বাস্তবায়ন। এ জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে, যা বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণে কাজ করবে।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ