ওবায়দুল কাদের, নাছিম, আরাফাত ও নিখিলের কী কী সম্পত্তি, মূল্য কত - বাজেয়াপ্তের আদেশ


 


ওবায়দুল কাদের, নাছিম, আরাফাত ও নিখিলের কী কী সম্পত্তি, মূল্য কত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই রায়ে পাঁচ আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পদ জুলাইয়ের শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাতজন হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। তাঁদের সবাই বর্তমানে পলাতক।

রায়ের অংশ হিসেবে ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ এবং মাইনুল হোসেন খান নিখিলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামায় ওবায়দুল কাদের, নাছিম, আরাফাত ও নিখিল তাঁদের সম্পদের যে হিসাব দিয়েছেন, তার ভিত্তিতে তাঁদের ঘোষিত সম্পদের বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো। শেখ ফজলে শামস পরশ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তাঁর কোনো নির্বাচনী হলফনামা নেই।

এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে জুলাই ফাউন্ডেশন বা সংশ্লিষ্ট কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওবায়দুল কাদেরের সম্পদ

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনের প্রার্থী হিসেবে ওবায়দুল কাদের হলফনামা জমা দেন। সেই হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর হাতে নগদ ছিল ৮০ হাজার টাকা।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাঁর জমা ছিল প্রায় ৭৬ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকার। তাঁর একটি গাড়ির মূল্য দেখানো হয় ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

২৫ তোলা সোনার মূল্য তিনি দেখিয়েছিলেন দেড় লাখ টাকা। এ ছাড়া প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্রের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ ছিল।

সব মিলিয়ে ওবায়দুল কাদেরের ঘোষিত অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে ঢাকার উত্তরায় ৫ কাঠা জমির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই জমির মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ টাকা।

এ হিসাবে তাঁর ঘোষিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের সম্পদ

২০২৪ সালের নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর হাতে নগদ অর্থ ছিল ৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল প্রায় ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

বিভিন্ন কোম্পানিতে তাঁর শেয়ার ও বন্ডের মূল্য ছিল প্রায় ১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র ছিল ৬০ লাখ টাকার। তাঁর দুটি গাড়ির মূল্য প্রায় ৬৫ লাখ টাকা।

২৫ ভরি সোনার মূল্য তিনি দেখিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও আসবাবপত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় সোয়া ১০ লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে নাছিমের ঘোষিত অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে মাদারীপুর ও সাভারে ১৩৯ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাজীপুরে তাঁর অকৃষি জমি রয়েছে ১৫৩ শতাংশ। এসব জমির মোট মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

এ ছাড়া ঢাকার উত্তরায় তাঁর একটি ভবনের মূল্য ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং মিরপুরে একটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৪৫ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে নাছিমের ঘোষিত স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

মোহাম্মদ আলী আরাফাতের সম্পদ

২০২৪ সালের নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোহাম্মদ আলী আরাফাত। পরে তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

হলফনামায় তাঁর স্থাবর সম্পদের মধ্যে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টের তথ্য রয়েছে। এর মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। তাঁর নামে অন্য কোনো স্থাবর সম্পদের তথ্য হলফনামায় পাওয়া যায়নি।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে শেয়ারে তাঁর সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ রয়েছে। নয়টি কোম্পানিতে তাঁর শেয়ার রয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

এ ছাড়া তাঁর নামে ৩৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, প্রায় ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি এবং ৩ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে।

সব মিলিয়ে আরাফাতের নিজের নামে ঘোষিত অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সম্পদ

ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিলের হলফনামায় কৃষি ও অকৃষি জমিসহ বিভিন্ন স্থাবর সম্পদের তথ্য রয়েছে।

একটি কৃষিজমির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ একর, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। আরেকটি কৃষিজমির পরিমাণ ৫৭ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং এর মূল্য ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

এ ছাড়া তিন কাঠার একটি অকৃষি প্লটের মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ টাকা। বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট শ্রেণিতে তাঁর প্রায় ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬১০ টাকার সম্পদের তথ্য রয়েছে।

সব মিলিয়ে নিখিলের ঘোষিত স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৬৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তাঁর নগদ অর্থ ছিল ২৪ লাখ টাকার কিছু বেশি। নিজের নামে ১ কোটি টাকার একটি এফডিআরও ছিল।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাঁর শেয়ারের মধ্যে নাবিল প্রপার্টিজে ৮ লাখ টাকা এবং নাবিল প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ে ৬২ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে।

তাঁর তিনটি যানবাহনের মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা।

হলফনামায় নিখিলের অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ