Subscribe Us

https://today24newsbangladesh.blogspot.com/

pop

Labels

Ads

ঢাকায় ছিনতাইয়ের চারটি প্রধান কৌশল চলছে, যার সঠিক হিসাব বা বিচার নেই

 


ঢাকায় ছিনতাইয়ের চারটি প্রধান কৌশল চলছে, যার সঠিক হিসাব বা বিচার নেই। গত ছয় মাসে একই কৌশলে তিন নারী ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে মারা গেছেন। অধিকাংশ ঘটনার থানায় গেলে ‘হারানো’ জিডি নেওয়া হয়। আলোচিত ২২ ঘটনার মধ্যে ৯টি ঘটেছে তেজগাঁও বিভাগের এলাকায়। অন্তত আটটি ঘটনায় নগদ টাকা বহনকারী ব্যক্তিরা লক্ষ্য হয়েছেন।

বগুড়া থেকে ঢাকায় চোখের চিকিৎসার জন্য আসা শিক্ষক রনজিলা পারভিন ২৯ আগস্ট ভোরে ছিনতাইকারীর ব্যাগ টানার ফলে রিকশা থেকে পড়ে মারা যান। এর আগে মুক্তা আক্তার ও সোহেলি ইসলামও একই কৌশলে প্রাণ হারিয়েছেন। চলন্ত রিকশা বা অটোরিকশা থেকে ব্যাগ টানার ঘটনায় এই তিন নারীর মৃত্যু হয়েছে।

রাজধানীতে ছিনতাইকারীদের হাতে এই মৃত্যু ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। বিভিন্ন সড়ক, মোড় ও ব্যস্ত এলাকায় বারংবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। পুলিশ ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো দস্যুতা বা ডাকাতির মামলায় নেয়, কিন্তু প্রকৃত ছিনতাইয়ের সঠিক সংখ্যা পাওয়া যায় না কারণ অনেক ভুক্তভোগী মামলা করেন না বা থানায় গিয়ে ‘জিডি’ করেন।

সোহেলি ইসলামের মতো গুরুতর ছিনতাইয়ের ঘটনাও পুলিশের অভিযোগের তালিকায় দেরিতে আসে। মোহাম্মদপুরে কলেজছাত্রের মোবাইল ফোন, টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায়ও পুলিশ মামলা না নিয়ে ‘মুঠোফোন হারানোর’ জিডি নেয়। এতে অপরাধের প্রকৃত চিত্র ধরা পড়ে না।

ছিনতাই এখন দিনের বিভিন্ন সময়েই ঘটছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটে বিভিন্ন ধরনের ছিনতাই। ভোরবেলা ঢাকার বাইরে থেকে আসা যাত্রীরা বাসা যাওয়ার পথে বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছেন।

গত ছয় মাসের ২২টি আলোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনা বিশ্লেষণে চারটি প্রধান কৌশল চিহ্নিত হয়েছে:

  • চলন্ত রিকশা বা অটোরিকশার যাত্রীর ব্যাগ টান দিয়ে ছিনতাই, যা প্রাণঘাতী হয়েছে।
  • দুই থেকে পাঁচজন মিলে ছুরি-চাপাতি দেখিয়ে দ্রুত টাকা ও ফোন নেওয়া।
  • ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের নগদ টাকা বহনের সময় ছিনতাই।
  • ভুক্তভোগীকে আটকে রেখে টাকা-মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চেষ্টা।

২২ ঘটনার মধ্যে ১৭টিতে ধারালো বা আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার দেখা গেছে। একক ছিনতাইয়ের চেয়ে দলবদ্ধ ছিনতাই বেশি। বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের চেকপোস্ট ও টহল সত্ত্বেও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ৮৮টি চেকপোস্ট ও নিয়মিত টহল রয়েছে। গাফিলতির ক্ষেত্রে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ছিনতাইয়ের ঘটনা ‘মুঠোফোন হারানোর’ হিসেবে নেয়ার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজধানীর ৩০০ এর বেশি এলাকা ছিনতাইপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত। তবে প্রথম আলোর বিশ্লেষণে দেখা যায় ৯টি ঘটনা তেজগাঁও বিভাগে, এছাড়া যাত্রাবাড়ী-ডেমরা-ওয়ারী ৫টি, মতিঝিল-শাহজাহানপুর ৪টি, উত্তরা-তুরাগ-বিমানবন্দর ৩টি, বনানী রেলগেট ১টি।

মানুষ বলছেন, পুলিশের তল্লাশি কমে গেছে, অনেক চেকপোস্টে পুলিশ থাকে না বা ফোনে ব্যস্ত থাকেন, ফলে অপরাধীরা পালাতে পারে। এ কারণে শহরে ছিনতাইয়ের ভয় বেড়েছে। গুলশানে কর্মরত মাহফুজা আক্তার জানান, আগে রিকশায় যাতায়াতের সময় ভয় পেতেন না, এখন সন্ধ্যায় চলাচলে ভয় পান।

কোন মন্তব্য নেই: